বাঙালীর প্রিয় লুচি

সেদিন কচুরির গল্পের পর আজকে লুচি — জনৈক এক কবির রচনা।

দুধ-সাদাটে বর্ণ আমার
ফুলকো নরম দেহ,
গোলগাল এই নধর শরীর
চিনতে পারো কেহ?

ময়দা মেখে কায়দা করে
চাকীর ওপর বেলে,
গাওয়া ঘিয়ে হালকা ভেজে
আলতো করে তোলে।

সঙ্গে থাকে গরম তেলে
লম্বা বেগুন ভাজা,
কুমড়ো আলুর ছক্কা খেয়ে
সবাই যে তরতাজা!

খায় যদি কেউ ডুবিয়ে আমায়
কচি পাঁঠার ঝোলে,
মাংসের স্বাদ তখন দেখো
কেমন দারুণ খোলে।

নরম নরম গরম বোঁদের
সঙ্গে যখন আসি,
ডায়বিটিসের রোগীর মুখেও
ফুটিয়ে তুলি হাসি।

ভালো ঘিয়ের গন্ধ মেখে
বিয়ের ভোজের রাতে,
ছোলার ডালে গা এলিয়ে
দেখা যে দিই পাতে।

পয়লা গুড়ের সঙ্গে আছি
কিম্বা রসগোল্লা,
সবার সাথেই অবাধ গতি
অটুট আমার জেল্লা।

রোববারেতে জলখাবারে
ডুবিয়ে আলুর দমে,
তৃপ্তি যে আর হয়না কারো
দশ-বারোটার কমে।

সব রকমের কর্মে আছি
সকল শুভ কাজে,
বঙ্গকূলের রান্নাঘরে
সবাই আমায় ভজে।

কোলেষ্টেরল যতই বাড়ুক
তাও আমাতেই রুচি,
সব বাঙালীর ভীষণ প্রিয়
আমি হলেম লুচি !

I'd love to hear your thoughts on this post! Please leave a comment below and let's discuss.