শিবরামের রসিকতা
শিবরাম চক্রবর্তীরর মেসবাড়ির ঘরে কোনোদিনই ঝাঁট পড়ত না। ফলে, তাঁর ঘরে বিস্তর ধুলো-ময়লা জমে থাকত।একবার এক পত্রিকার দপ্তর থেকে এক তরুণ এসেছিল শিবরামের কাছ থেকে তাদের পত্রিকার জন্য একটি লেখা নিতে। শিবরামের ঘরের অবস্থা দেখে ওই তরুণ শিবরামকে বলল, ‘শিবরামদা, এত ময়লা ঘরে থাকাটা খুবই আনহাইজিনিক। আমি কি আপনার ঘরটা পরিষ্কার করে দেব?’ তরুণের প্রস্তাবে শিবরাম যেন আঁতকে উঠলেন। বললেন, ‘আরে না না। জীবাণুগুলি শান্তভাবে আছে, আমার কোনো ক্ষতি করছে না। ঘর সাফ করতে গিয়ে ওদের ক্ষেপিয়ে তুলো না।’
দাদাঠাকুরের রসিকতা
কলকাতায় তখন সবে বেতার সম্প্রচার শুরু হয়েছে। একদিন গায়ক রামকুমার চট্টোপাধ্যায় সেখানে গান গাইতে গেছেন।রামকুমার তখন বয়সে নবীন। নির্ধারিত সময়ের সামান্য আগে এসে পড়েছিলেন বলে প্রবেশদ্বারের সামনেই একপাশে দাঁড়িয়ে প্রতীক্ষা করছিলেন তিনি।এমন সময়ে দেখলেন, খালি গায়ে চাদর-জড়ানো গোঁফওয়ালা একটি লোক ঢুকছেন। সুদর্শন রামকুমারকে দেখে লোকটি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে কেন? কী কর তুমি?’
রামকুমার বললেন, ‘আমি গাই।’
শুনে লোকটি বললেন, ‘তা বাবা, এবেলা-ও-বেলা ক-সের দুধ দাও?’ বলেই লোকটি রামকুমারের উত্তর শোনার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত ভেতরে ঢুকে গেলেন।……….রামকুমার জানতে পারলেন, এই লোকটিই দাদাঠাকুর।
রবীন্দ্রনাথের রসিকতা
রবীন্দ্রনাথ একটি সাহিত্য সভায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরুদ্ধ হয়েছিলেন।তিনি সম্মত হলে সভার উদ্যোক্তারা তাঁকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যেই সভা প্রাঙ্গণে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
রবীন্দ্রনাথ যথাসময়ে সভার আঙ্গিনায় এসে দেখলেন,দর্শকের আসনে কিছু লোক থাকলেও সভায় উদ্যোক্তাদের কেউ সেখানে উপস্থিত নেই। রবীন্দ্রনাথ বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সভাস্থল ত্যাগ করার মনস্থ করলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার আগে সভার উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে একটা বার্তা রেখে এলেন :
“এসেছিলেম বসেছিলেম
দেখলাম কেউ নেই।
আমার সাড়ে পাঁচটা জেনো
পাঁচটা তিরিশেই।”
বঙ্কিমচন্দ্রের রসিকতা
সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র তখন ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে নিয়ে ট্রেনে চেপে যাচ্ছিলেন।বঙ্কিমের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন অসামান্য সুন্দরী। যে কামরায় চেপে সস্ত্রীক বঙ্কিমচন্দ্র যাচ্ছিলেন সেই কামরায় তাঁর সহযাত্রীদের মধ্যে একটি অল্পবয়সি যুবকও ছিল। যুবকটি ঘন ঘন বঙ্কিমের স্ত্রীরর মুখের দিকে তাকাচ্ছিল। এটা লক্ষ করে বঙ্কিমচন্দ্র যুবকটির সঙ্গে একটু রসিকতা করতে চাইলেন।তিনি যুবকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী কর?’
এই আচমকা প্রশ্ন শুনে যুবকটি থতমত খেয়ে বলল, ‘আমি কেরানি।’
বঙ্কিম জিজ্ঞেস করলেন, ‘তা মাইনে কত পাও?’
যুবকটি উত্তর দিল, ‘চল্লিশ টাকা।’
বঙ্কিমচন্দ্র বললেন, ‘আমি ম্যাজিস্ট্রেট। মাইনে পাই আটশ টাকা। তাছাড়া লেখালেখি করেও কিছু বাড়তি উপার্জন করি। সাকুল্যে মাসে দেড় হাজার টাকা রোজগার হয়। তাতেও এ মহিলার মন পাইনি। তুমি চল্লিশ টাকার কেরানি হয়ে কি এর মন পাবে?’
