শ্রীলঙ্কায় গত সপ্তাহের বিস্ফোরণের ঘটনায় আমার মনে পড়ে গেলো 2010র এক ঘটনা। স্থানটি ছিল বাগদাদ। দিনটা ছিল রবিবার, জুন 20 — একটি নতুন সপ্তাহের শুরু। আমরা আমাদের ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলাম।
অফিশিয়াল কাজ বাগদাদে সকাল 8 টায় শুরু হয়। তখন প্রায় 11.00টা বাজে। হঠাৎ একটা বিশাল, ভূবন-কাঁপানো শব্দ হলো। কাচের প্যানেলগুলি ছিটকে গেলো। কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। অবিলম্বে সব অন্ধকার হয়ে গেলো এবং অনেকে উপর থেকে নিরাপত্তার জন্য বেসমেন্ট দৌড়ে নেমে আসে। আমার অফিস বেসমেন্ট ছিল। এইরকম সময়ে বেসমেন্ট বাঙ্কারের কাজ করে।
এটি একটি বিষ্ফোরণ! হ্যাঁ, একটি বোমা বিস্ফোরণ! আমরা ব্যাপারটা একটু বোঝার মধ্যে, হলো অন্য একটি ওইরকম বিস্ফোরণ! জোড়া বোমা বিস্ফোরণ! ঠিক যেন পাঁচ মিনিটের মাথায়।
চারিদিকে সব তছনছ হয়ে গিয়েছে। False ceiling ভেঙ্গে পড়ছে, জানালার প্যানেল টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। সব বিচ্ছিন্ন, কলীগরা ভয়ে কাঁপছে, আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় — এটা আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। আমি আমার এত কাছাকাছি কোন বিস্ফোরণ এর আগে কখনো দেখিনি। আমি সেইদিন মৃত্যুকে সাক্ষাৎ অনুভব করেছিলাম।
কিছুক্ষণের জন্য আর কোন শব্দ নেই। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী পুরো ব্যাংকটাকে কভার করে দিলো এবং নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলো। কিছুক্ষণ আমরা সব বেসমেন্টে রইলাম আসন্ন এক অজানা বিপদের আশঙ্কায়। প্রতি মিনিট যেন এক ঘন্টা মনে হচ্ছিলো। কিছুক্ষণ পর আমরা ধিরে-ধিরে বেসমেন্ট থেকে উঠে এলাম। নিরাপত্তা বাহিনী অন্য কোন বোমার সম্ভাবনা খুঁজছিল। যতক্ষণ না তারা নিশ্চিন্ত হলো যে কাছাকাছি আর কোন বোমা নেই তারা আমাদের গেটের দিকে যাবার অনুমতি দেয়নি।

আমরা যখন আমাদের বিদ্ধস্ত ভবন থেকে বেরিয়ে এলাম তখন দেখলাম সেই দু’টি গাড়ি যা বিস্ফোরণ করেছিল। রাস্তার উপর আমাদের ব্যাঙ্কের সামনে blast walls ছিল আর ওই গাড়ী গুলি সেই প্রাচীরে ধাক্কা মেরে বিস্ফোরণ ঘটায়। বাগদাদে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাড়ি ও অফিস এই ধরনের হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য এইরকম প্রাচীর দিয়ে পরিবেষ্টিত ছিল। এই প্রাচীরের জন্য আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রধান ভবনটি আঘাত করতে পারেনি। কিন্তু এই দুর্ঘটনাতে আমাদের কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষীদের মৃত্যু হয়ে যায়, তারা গেট নিয়ন্ত্রণ করছিলো। তাদের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে ছিলো — সেই দৃশ্য না দেখলে বোঝা যায়না যে কত মর্মান্তিক। তাদের সাহসী আত্মার শান্তি কামনা করি! সেদিন তারা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছিলো।
Discover more from Indrosphere
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
