পারফ্যুম বিভ্রাট

ম্যানেজার হওয়ার পরে রাস্তোগী সাহেব অভিনন্দন উপভোগ করছিলেন। আমি যখন বহুবছর আগে ব্যাংকে চাকরী শুরু করি, তখন ভেবেছিলাম যে উনি কেরানী হিসেবে অবসর নেবেন। কিন্তু যখন ব্যাংকটি শাখা খুলতে শুরু করে, তখন ব্যাঙ্কের প্রসার খুব হয়। এবং রাস্তোগী সাবও একদিন অফিসার এবং তারপরে ম্যানেজার হন।

যখন রাস্তোগী সাব অফিসার হয়েছিলেন তখনই ম্যানেজার হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক ছিল  রাস্তোগী সাবকেও ম্যানেজারের চেয়ারে বসতে চাপ দেওয়া হয়েছিল! সম্ভবত সে কারণেই তিনি আরও অভিনন্দন পাচ্ছিলেন। রাস্তোগী সাব ম্যানেজার হলেন তো ওনার গিন্নী যেন জেনেরাল ম্যানেজার। 

নতুন পোস্টিং, কেবিন আছে, সেইভাবে তাকে ব্যাঙ্কে যেতে হবে। সাহেব ও মেমসাহেব দুজনেই বাজারে গেলেন। মেমসাহেব রাস্তোগী সাবের জন্য কিছু নতুন শার্ট প্যান্ট কিনলেন, নতুন জুতো কিনলেন এবং কিছু সাদা রুমালও কিনলেন।

রাস্তোগী সাব চিরকাল শান্তি পছন্দ করতেন, তাড়াহুড়ো তার পছন্দ নয়। বলতেন তাড়াতাড়ির কাজ নাকি শয়তানদের কাজ। ব্যাঙ্কের অনেক আগে বাড়ি থেকে বের হতেন, স্কুটারটিও অনেক ঝামেলা করে চালাতেন এবং ধীরে-ধীরে অফিসের কাজও করতেন। সরাসরি ব্যাংক থেকে বাড়ি আসতেন। রাস্তোগী গিন্নী তার সব কেনাকাটা করতেন। এখন অবশ্য উনি গাড়ি করে ব্যাঙ্কে আসেন তবে গাড়িটিও ধীরে ধীরে চালান। তিনি তৃতীয় গিয়ারের বেশী যেতে পছন্দ করেন না।

সেদিন ছিল নতুন শাখার প্রথম দিন। মিসেস রাস্তোগী কাজু, বাদাম এবং কিসমিস দিয়ে হালুয়া রান্না করেছিলেন। হালুয়া নাকি শুভ। উনি নিজের হাত দিয়ে রাস্তোগী সাহেবকে হালুয়া খাওয়ালেন এবং একটি বড় বাক্সও প্যাক করে দিলেন।। সহকর্মীদের খাওয়ানোর জন্য বলে দিলেন। রাস্তোগী সাব যখন রওনা হবার জন্য প্রস্তুত তখন মিসেস বলেনঃ “ওহ পারফিউম লাগানো হয়নি! কোন দিন লাগাও নি, আজকে একটু লাগিয়ে যাও, ম্যানেজার বলে কথা।” এই বলে তাড়াতাড়ি ঘরের দিকে দৌড়ালেন। তারপরে রাস্তোগী সাহেব উপর ভালভাবে স্প্রে করেদিলেন।

শাখার কর্মীদের সাথে সকালে একটি ছোট সভা করলেন। সকলে ওনাকে অভ্যর্থনা করলেন।দু’জন মহিলাও ছিলেন ব্যাঙ্কে, একজন অফিসার, কিরণ এবং একজন কেরানি উর্মিলা। উভয়ই নতুন সাহেবকে স্বাগত জানিয়েছেন। বাড়িতে পৌঁছে রাস্তোগী সাব তার জেনেরাল ম্যানেজারকে, মানে ওনার স্ত্রীকে, সমস্ত কিছু বিস্তারিতভাবে বললেন এবং তিনি সান্ত্বনা পেলেন প্রথম দিনটা তবে ভালোই কাটলো। 

পরের দিন মধ্যাহ্ন অবকাশের পরে ভদ্রমহিলা ক্লার্ক কেবিনে এসে বললেন,

– স্যার, আপনি নুঙ্গি শাখা থেকে এসেছেন, তাই না?
– হ্যাঁ.
– স্যার, আমি পাঁচ বছর আগে সেখানে পোষ্টেড ছিলাম।
– বাঃ, আমি এই গত বছর  ঐ ব্রাঞ্চে গিয়ে ছিলাম, প্রমোশান পেয়ে আমি এখন এখানে এসেছি।
– বাড়িতে কে কে আছেন?
– মিসেস মানে আমরা দুজনেই। কন্যা বিবাহিতা।
– ঠিক আছে ঠিক আছে. ঠিক আছে তবেই। কিরণ এবং আমার মধ্যে কথা হচ্ছিলো, আমি ভাবলাম আমার আপনাকে বলা উচিত। স্যার আপত্তি করবেন না তো?
– না, তুমি বলো
– স্যার, আপনি যে পারফ্যুম ব্যাবহার করেছেন, সেটা নিশ্চয়ই আপনার নয়, কারণ এটি মহিলাদের পারফ্যুম।
– ওহ, তাই নাকি!

সেদিনের পর থেকে আর আমরা রাস্তোগী সাহেবকে আর পারফ্যুম ব্যাবহার করতে দেখিনি। জানিনা সেই রাত্রে রাস্তোগী নিবাসে কি হয়ে ছিল। অবশ্য এরজন্য আমরা উর্মিলাকেও অনেক বলেছি।

2 thoughts on “পারফ্যুম বিভ্রাট

  1. কি যা তা করলো মহিলা কর্মীটি, তার চেয়ে একটা পুরুষালি পারফিয়ুম কিনে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যেতো। 🤪😜😁

Leave a Reply