রাজধানী এক্সপ্রেস

ভ্রমণ সবসময়ই মজার, বিশেষ করে ট্রেনে। আমি ট্রেনের জানালা থেকে দৃশ্য উপভোগ করি এবং যাত্রার রোমাঞ্চ অনুভব করি। সেজন্য আমি ট্রেন যাত্রা পছন্দ করি। রাজধানী এক্সপ্রেস ভারতে ট্রেন যাত্রায় বিপ্লব ঘটিয়েছিল ৫৪ বছর আগে।  

১৯৬৯-৭০ সালের রেল বাজেটে, রেলমন্ত্রী ডাঃ রাম সুভাগ সিং একটি নতুন সুপারফাস্ট ট্রেনের প্রবর্তনের ঘোষণা করেছিলেন যা ১৮ ঘন্টারও কম সময়ে দিল্লিকে কলকাতার সাথে সংযুক্ত করবে। তখন পর্যন্ত, এই দুটি শহরের মধ্যে দ্রুততম ট্রেনগুলি সাধারণত ২০-২২ ঘন্টার বেশি সময় নেয়। ট্রেন সপ্তাহে দু’বার (হাওড়া থেকে সোম আর শুক্রবার, নয়াদিল্লি থেকে বুধ আর শনি) যাতায়াত করতো। 

এইভাবে, ১ মার্চ ১৯৬৯ তারিখে, প্রথম রাজধানী এক্সপ্রেস বিকেল ৫ঃ৩০টায়  নয়াদিল্লি থেকে হাওড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং ১৭ ঘন্টা ২০ মিনিটের রেকর্ড সময়ে ১৪৫০ কিলোমিটার শেষ করে পরের দিন সকাল ১০ঃ৫০টায় তার গন্তব্যে পৌঁছায়। ফিরতি রাজধানী এক্সপ্রেস হাওড়া জংশন থেকে বিকেল ৫টায়  ছেড়ে যায় এবং তার পরের দিন সকাল ১০ঃ২০তে নয়াদিল্লিতে পৌঁছায়। হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেসের প্রাথমিক সর্বোচ্চ গতি ছিল ১২০ কিমি/ঘন্টা।

সবুজ পতাকা নেড়ে চালক জি এল টচার-কে ট্রেন ছাড়ার সঙ্কেত দিয়েছিলেন গার্ড এস ও লেভি। ৫৪  বছর আগের ওই ট্রেনের মাধ্যমে ভারতীয় রেলে গতিতে বিপ্লব এসেছিল৷ তখন যেখানে রেলে সর্বোচ্চ গতি ৬০ মাইল বা ৯৬ কিমি ছিল সেখানে রাজধানীতে সর্বোচ্চ গতি হল ১২০ কিমি৷

শুরুতে মাত্র ৯টি কোচ ছিল রাজধানী এক্সপ্রেসের৷ তার মধ্যে পাঁচটি ছিল এসি চেয়ারকার এবং একটি প্রথম শ্রেণির এসি কামরা৷ তাছাড়া ছিল একটি ডাইনিং কাম লাউঞ্জ কার এবং দু’টি জেনারেটর কার। প্রথম দিকে ট্রেনে দুটো লাউঞ্জ কার-ও ছিল। সেখানে জানালার ধারে সোফায় বসে প্যান্ট্রি কার থেকে আনানো চা-কফির সঙ্গে খবরের কাগজ, ম্যাগাজ়িন পড়া যেত।

পথ চলার শুরুতে রাজধানী এক্সপ্রেসে যাত্রীদের খাদ্য তালিকায় বিশেষ নজর রাখা হত। প্যান্ট্রি কার থেকে যাত্রী আসনে সন্ধ্যার চা, রাতের খাবার ও প্রাতঃরাশ পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা ছিল। প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ থাকত কাস্টার্ড ক্যারামেল। এছাড়া সব যাত্রীদের জন্যই থাকত সুপ। রাতের খাবারে ফিশফ্রাই এবং রসগোল্লা।

সে-দিন ডিজেল ইঞ্জিনে চলা রাজধানী এক্সপ্রেসে আজ চেয়ারকার উঠে গিয়ে অবশ্য সবই উন্নত শ্রেণীর বাতানুকূল স্লিপার কামরা। পরে দুটো লাউঞ্জ কার শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস-এ জুড়ে দেওয়া হয়।

রাজধানীতে বাতানুকূল প্রথম শ্রেণির ভাড়া প্রথমে ছিল ২৮০ টাকা, আর চেয়ার কারের ভাড়া ৯০ টাকা (হাওড়া-দিল্লি)। যাত্রাপথে ট্রেন দাঁড়াত ধানবাদ, মুঘলসরাই, ইলাহাবাদ স্টেশনে। গয়া আর কানপুর ছিল ‘ক্রু চেঞ্জিং পয়েন্ট’। কমার্শিয়াল স্টপেজ ছিল না। টিকিট দেওয়া হত ‘এন্ড টু এন্ড’ ভিত্তিতে, অর্থাৎ হাওড়া-ধানবাদ-মুঘলসরাই থেকে শুধুমাত্র নিউ দিল্লিই যাওয়া যাবে।

রাজধানীর টিকিটও  ছিল অন্য রকম। তখনকার বিমান টিকিটের মতো দু’পাশে মোটা কাগজের ফ্ল্যাপওয়ালা এক পাতার টিকিট। একদিকে কুতুব মিনারের ছবি আর অন্যদিকে হাওড়া সেতুর ছবি।

১৯৭২ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল ভারতের একমাত্র রাজধানী এক্সপ্রেস, যখন ভারতীয় রেল আরেকটি বম্বে রাজধানী চালু করেছিল। সারা দেশে এখন ২৫ জোড়া রাজধানী এক্সপ্রেস চলে।

চার বছর আগে ২০১৯ সালে রাজধানীর যাত্রা শুরুর ৫০ বছর উপলক্ষে রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে এই দিনটি উদযাপন করে।

4 thoughts on “রাজধানী এক্সপ্রেস

  1. My first travel by Rajdhani Express to Howrah was in the summer of 1978. It was the Chair Car…the ticket price was ₹240/-… Quite expensive those days compared to ₹80/- for 3-tier in Kalka Mail or Poorva Express (then just Deluxe Express).
    It was also my solo trip to Kolkata with my friend Pranab Ganguly.

    Liked by 1 person

    1. আমি অবশ্য রাজধানীতে প্রথম চড়ি ১৯৮৫-এ। কলকাতা থেকে দিল্লী আসার সময় ব্যাংকে চাকরী পাওয়ার পরে।

      Liked by 1 person

I'd love to hear your thoughts on this post! Please leave a comment below and let's discuss.