আজ থেকে বেশ কিছু দশক পিছিয়ে গেলে, যখন ভ্যাকসিন বা অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হয়নি, তখন বেশিরভাগ সময়ই মৃত্যুর কারন ছিল জীবাণু-সংক্রমণ। সেটা ব্যাকটিরিয়া বা ভাইরাস যা কিছু হতে পারে। সেটাকে আটকাতে, তখন থেকে যে সনাতনী হিন্দু প্রথা চলে এসেছে তা ছিল বিজ্ঞানভিত্তিক।
- মৃত দেহ পুড়িয়ে ফেলা। সাথে ব্যক্তির লেপ তোষক, ব্যবহার করা পোশাকের। জীবাণু সংক্রমণের সুযোগ কমিয়ে ফেলা।
- অশৌচ। বাড়ীর লোকজনকে আলাদা করে রাখা। এমন খাবার খেতে হয়, যেটার জন্য বাজারে যাবার প্রয়োজন নেই। ভাত, চিড়ে, ঘী, দই, ফল এইসব।
- মালসায় রান্না, কলাপাতায় ভোজন। বাসন মজার দরকার নেই। বাজার ও পুকুর থেকে দূরত্ব রাখা।
- চুল দড়ি না কাটা। তখন সেফটি রেজর ছিল না। নাপিতের দোকান থেকে দূরে রাখা যেন দোকানের ক্ষুর বা কাঁচি থেকে জীবাণু না ছড়ায়।
- লোকে বাড়ীতে এসে ভুজ্যি দিয়ে যেত। যেন বাজারে না যেতে হয়। যাঁরা আসতেন তাঁদের বাড়ী ফিরে ভালো করে স্নান করে তারপর বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হত। এটাও সংক্রমণের থেকে দূরে রাখার সুকৌশল।
- আত্মীয় স্বজনের অশৌচের ড্রেস কোড। যেন অপরিচিত কেউ দেখলেও বুঝে ফেলে ও দূরত্ব রাখে। কারন ছুঁয়ে ফেললেও চান করতে হবে।
- অশৌচের ব্যাপ্তি। সাধারনত ১০-১২ দিন, বাড়ী থেকে স্বাভাবিক ভাবে জীবাণুর বিলুপ্তির আশা। এই কারণেই অপঘাতে মৃত্যু হলে ৩ দিন অশৌচের সময়। কারন অপঘাতে মৃত্যুর কারণ জীবাণু নয়।
এখন আমাদের গ্লোবাল অশৌচের সময়। যাকে আমরা সোশ্যাল ডিস্টান্সিং বলছি আরকি! এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে, সবাই সবার আত্মীয়। এ যেন ইতালীতে কেউ মারা গেলে ভারতে তার অশৌচ পালন করতে হচ্ছে।
করোনাভাইরাস আমাদের এক প্রাচীন প্রথা যেটাকে আমরা ফালতু ভাবতে শুরু করেছিলাম সেটা যে কতো যুক্তিসঙ্গত আমাদের আবার মনে করিয়ে দিলো।
Discover more from Indrosphere
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

The ancient Hindu customs were highly scientific. It is unfortunate that modernization has forgotten the basic tenets and foundation on which they functioned.
একদম সঠিক। ধন্যবাদ অরো।